|
|
   
   ১৯ আগষ্ট ২০১৭  
 


 
সদস্য হোন
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
 
 
  
মাছ চাষে সফল খোন্দকার সফিকুল ইসলাম

দৌলতদিয়া ঘাট থেকে সড়কপথে কুষ্টিয়া যেতে বাংলাদেশ হাট বাসস্ট্যান্ড পার হতেই চোখে পড়ে সড়কের দু’পাশের বড় বড় দীঘি। দীঘির পাড়ে আছে পেয়ারা, লেবু, লিচু আর আমের গাছ। একটু ভালো করে চোখ মেলে তাকালে দেখা যাবে দীঘির পানিতে মাছের ঝাঁক। প্রায় প্রতিদিনই সকাল বেলা দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ মাছের পোনা ব্যবসায়ীরা পোনা সংগ্রহ করতে সাইকেলের পেছনে বড় বড় ডেকচি নিয়ে দীঘির পাড়ে বসে আছে লাইন ধরে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে বড় মাছ কিনতে আসেন দেশের দূর-দূরান্তের মানুষ। বাকি মাছ বিক্রি করা হয় পাংশার মাছ বাজারের আড়তে।

কথা হয় এই রুপালি উদ্যোগের আয়োজক পাংশা উপজেলার বোয়ালিয়া হাটগ্রামের খোন্দকার সফিকুল ইসলামের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়া সফিকুল ইসলাম জানান, কলেজ জীবন থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ১৯৯২ সালে মাছ চাষ শুরু করি। মাত্র ১৫ হাজার টাকা মূলধনে একটি পুকুর দিয়ে যাত্রা শুরু। রাজবাড়ী সরকারি মত্স্য হ্যাচারি ও পাংশা উপজেলা মত্স্য অফিসের পরামর্শ নিয়ে শুরু থেকেই সফলতা পেলাম। বর্তমানে ১৫টি ছোট-বড় পুকুরে মাছ চাষ চলছে। এখানে জলের আয়তন রয়েছে ১১ একর ৫০ শতাংশ। জলাভূমির ৫ একর লিজ নেয়া এবং বাকিগুলো খামারের লভ্যাংশ দিয়ে ধীরে ধীরে ক্রয় করে পুকুর তৈরি করা হয়েছে। পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, বিগহেড, থাইপুঁটি, কার্ফু, গ্রাসকার্পসহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছের চাষ করা হয়।

প্রাকৃতিকভাবে উত্পাদিত নদী ও সরকারি হ্যাচারি থেকে উত্পাদিত রেণু সংগ্রহ করে খামারে নার্সিং করে বিভিন্ন সাইজে বড় করে বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। সফিকুল ইসলাম বলেন, গতানুগতিক মাছ চাষ পদ্ধতি পরিহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে অর্থাত্ পানির উচ্চতা ও স্তর নির্ধারণ করে শতাংশ প্রতি মাছের পোনা হিসাব করে খামার পরিচালনা করলে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এক্ষেত্রে মাছ সুস্বাদু এবং খামার পরিবেশবান্ধব রাখতে রাসায়নিক সার বেশি ব্যবহার না করে গোবর ও খৈলজাতীয় জৈবসার ব্যবহার করতে হবে এবং মাছের ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির জন্য প্রতি ৩ মাস অন্তর খামারে চুন ব্যবহার করতে হবে। তিনি জানান, ২০০৮ সালে খামারে রেণু ক্রয়, মাছের খাবার, কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদি ব্যয় বাদ দিয়ে প্রতি মাসে লাভ হয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা।

আরো সফল কৃষক: