প্রথম পাতা » নার্সারী » মালএশিয়ান রাম্বুতানের কলম চারা ।



পন্যের নাম: মালএশিয়ান রাম্বুতানের কলম চারা ।

পন্য ক্রমিক নং: ২০

বিস্তারিত: আমাদের কাছে মালএশিয়া থেকে আমদানী কৃত রাম্বুতানের কলম চারা পাওয়া যায় । কলম চারার সাইজ দের ফিট , প্যেকেটে আছে । ঢাকার মধ্যে হোম ডেলিভারী ও অন্য জেলায় কুরিয়ারে চারা পাঠানো হয় ।

রাম্বুটান গাছ, ফুল ও ফলের পরিচয় :
রাম্বুটানের গাছ মাঝারি আকারের বৃক্ষপ্রকৃতির। গাছ প্রায় ১০-২৫ মিটার লম্বা হয়। এটি বেশ ঝোপালো স্বভাবের। গাছের উচ্চতার প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ হলো পত্রপল্লবের বিস্তার বা ক্যানোপি। একটি বোঁটায় দু- চারটি পাতা থাকে এবং ডালে পাতাগুলো বিপরীতমুখীভাবে সাজানো থাকে। পাতার কক্ষ থেকে ফুলের মঞ্জরী বের হয়। ডালের আগা বা পার্শ্বীয়ভাবে পুষ্পমঞ্জরী বের হয়। ফুল খুবই ছোট, ফুলের রঙ সবুজাভ, একটি ছড়ায় ৬০০ থেকে দুই হাজার ফুল ফোটে। কিন্তু থোকায় ফল অত ধরে না।
সাধারণত বসন্তের পরপরই শুষ্ক দিনে রাম্বুটানের ফুল আসে এবং গ্রীষ্ম-বর্ষায় ফল পাকে। ফুল ফোটার পর ফল পাকতে প্রায় ৯০ থেকে ১২০ দিন লাগে। চারা লাগানোর তিন বছর পর থেকেই ফল ধরতে শুরু করে এবং ২০ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়।
ফল লিচুর মতোই থোকায় ধরে। ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার। কাঁচাফলের রঙ সবুজ, পাকলে লাল হয়ে যায়। খোসা লম্বা খাটো সোজা বাঁকা ইত্যাদি নানা আকৃতির কাঁটাযুক্ত। তবে কাঁটাগুলো শক্ত নয়। খোসা ছাড়ালেই ভেতরে লিচুর মতো সাদা শাঁস পাওয়া যায়। শাঁসের স্বাদ মিষ্টি টক, রসালো। ভেতরে লিচুর মতো একটি বীজ থাকে, বীজ শক্ত, লম্বাটে, ডিম্বাকার ও বাদামি রঙের। ফলের মোট ওজনের ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ থাকে শাঁস, ৪ থেকে ৯ শতাংশ বীজ। প্রতিটি ফলের ওজন ৩০-৬০ গ্রাম। ফল ধরে গ্রীষ্মকালে।
উপযুক্ত আবহাওয়া :
এশীয় দেশগুলোতে ২২ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার মধ্যে রাম্বুটান জন্মে। কিন্তু অব-উষ্ম ও কিছুটা ঠাণ্ডা অঞ্চলে ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে ভালো হয়। যেসব এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হয় সেখানে রাম্বুটান ভালো হয়। তা না হলে বেশি সেচ দিতে হবে। বিশেষ করে ফুল আসার সময় থেকে ফল সংগ্রহের আগ পর্যন্ত সেচ চালিয়ে যেতে হবে। তাপমাত্রা ও বাতাসের জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা হঠাৎ কমে গেলে অনেক সময় রাম্বুটান গাছের ডগা শুকিয়ে আসে এবং পাতার কিনারা হলদে হতে শুরু করে।
চাষ উপযোগী মাটি :
উঁচু, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না এরূপ সুনিষ্কাশিত বেলে দো-আঁশ মাটি রাম্বুটান চাষের জন্য ভালো। তবে এঁটেল-দো-আঁশ মাটিতেও চাষ চলে। তবে মাটিতে বেশি জৈবপদার্থ থাকলে বা দিলে রাম্বুটানের গাছ ভালো বাড়ে ও ফল বেশি ধরে। মাটির অম্লমান বা পিএইচ মান ৪.৫ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে হওয়া ভালো।
মাদা তৈরি:
উভয় দিকে ৮-১০ মিটার দূরত্বে ১ x ১ x ১ মিটার আকারের গর্ত করে উন্মুক্ত অবস্থায় রাখতে হবে। কলম রোপণের ১০-১৫ দিন পূর্বে প্রতি গর্তে ২৫-৩০ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ৩০০ গ্রাম এমওপি, ২০০ গ্রাম জিপসাম ও ৫০ গ্রাম জিংক সালফেট সার গর্তের মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে রেখে দিতে হবে। মাটিতে রসের অভাব থাকলে পানি সেচ দিতে হবে।
চারা রোপণ:
গর্ত ভর্তির ১০-১৫ দিন পর নির্বাচিত চারাটি সোজাভাবে গর্তের মাঝখানে লাগিয়ে চারার চারদিকের মাটি হাত দিয়ে চেপে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে এবং খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে যাতে বাতাসে চারার গোড়া নড়ে না যায়। রোপণের পরপরই পানি সেচ দিতে হবে। এরপর নিয়মিত পানি সেচ ও প্রয়োজনে বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
চারা রোপণের হারঃ
বাণিজ্যিক বাগান করলে হেক্টর প্রতি ৮০ থেকে ১২০টি চারা লাগানো যায়।
পানি সেচ ও নিষ্কাশন:
রাম্বুতান গাছ খরা সংবেদনশীল। চারার বৃদ্ধির জন্য শুকনো মৌসুমে ১০-১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। ফলন্ত গাছের বেলায় সম্পূর্ণ ফুল ফোটা পর্যায়ে একবার, ফল মটর দানার মতো হলে একবার এবং এর ১৫ দিন পর আরও একবার মোট তিনবার সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। সার প্রয়োগের পর সেচ দেওয়া ভালো। বর্ষার সময় যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে থাকে তার জন্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া ফুল আসার ৬-৮ সপ্তাহ আগে সামান্য পানির কষ্ট/পীড়ন দিলে আগাম ও অধিক ফুল ফুটতে দেখা যায়।
ডাল ও মুকুল ছাঁটাইকরণ:
রাম্বুতান গাছকে সধারণত লম্বা ও খাড়াভাবে বাড়তে দেখা যায়। তাই প্রথম দিকেই গাছের সঠিকভাবে প্রুনিং করা জরুরি। ফল সংগ্রহের পরপর ফলের মুকুলগুলো গোড়া থেকে কেটে দিতে হবে তাতে গাছের নতুন কুঁড়িগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। মৃত, রোগাক্রান্ত এবং লকলকে ডালপালাগুলো নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। কলমের চারার ক্ষেত্রে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রথম ৩-৪ বছর পর্যন্ত মুকুল আসলে তা কেটে দিতে হবে।
ফল সংগ্রহ :
সাধারণত ফল ও স্পাইনলেটের রং লালচে বর্ণ ধারণ করলে ফল সংগ্রহ করতে হবে। অপরিপক্ক ফলে মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাবলী পরিপক্ক ফলের তুলনায় অনেক কম থাকে। ভালো বাজার মূল্য পাওয়ার জন্য ফল লালচে খয়েরী বর্ণ ধারণ করার ১০-১২ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা ভালো। গাছে ফল অতিরিক্ত পাকিয়ে সংগ্রহ করলে এরিল শুকিয়ে শক্ত হয় এবং ফলের সুগন্ধ ও স্বাদ কমে যায়। রাম্বুটান নন ক্লাইমেক্টারিক ফল হওয়ায় সংগ্রহোত্তর ইথিলিন উৎপাদন ও শোষণের হার খুব বেশি থাকে। এই কারণে ফল খুব দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং নষ্ট হতে থাকে।
ফলনঃ
জাত অনুযায়ী তিন বছরের একটা গাছে ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়, নয় বছরের একটা গাছে ৫৫ থেকে ২০০ কেজি ফল পাওয়া যায়, ২০ বছরের একটা গাছে ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ফল পাওয়া যায়। ফল পাকলে লালচে রঙ চলে আসে। তখন একটা একটা করে বা গোটা থোকাসহ ফল তোলা যায়।

দর: ১৮০০

ষ্টক: ২০০টি

পন্য সংযুক্তির তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯

পণ্যের ধরণ: নার্সারী

পন্য প্রাপ্তির স্থান: গাজীপুর




আরো কিছু পন্য